|

‘আগামী রবি বা সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর’

প্রকাশিতঃ ১২:৫২ অপরাহ্ণ | মে ১৯, ২০২০

কামরুজ্জামান তুহিন:

আস সালামু আলাইকুম।আগামী রবি বা সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বড় এক উৎসব। আগাম ঈদ মোবারক।

দেশের সকল মসজিদের সম্মানিত ইমাম,পরিচালনা কমিটি, জনপ্রতিনিধি, সচেতন মুসল্লী, ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ঠজন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যদি নজড়ে আসে, তাই লিখা। আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বিনীত অনুরোধ করছি, বিষয়গুলো ভাবার জন্যে, যদি এতটুকু কাজে আসে দেশের চলমান ভয়াবহ করোনা সংকট মোকাবেলায়।

সরকার যখন ৫/৭ জনে ওয়াক্ত নামাজ কিংবা ১০/১২ জনে তারাবি নামাজের নির্দেশনা দিল, তখনও কিন্ত মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এসেছেন সংখ্যার বিষয়টি আমলে না নিয়ে। এখন কিছু নির্দেশনা মেনে উন্মুক্ত করে দেয়ায়, প্রায় সকল মসজিদেই নিরাপদ দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজও পড়ছেন।

কোথাও তেমন কোন সমস্যাও হচ্ছে না। তবে অন্য এলাকার মুসল্লি যখন হঠাৎ কোন মসজিদে যাচ্ছেন, তখন হয়ত সেই মসজিদের ব্যবস্থাপনার সাথে তাল মিলাতে পারছেন না। বা অনিয়মিত মুসল্লিদের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে বড় বেশি আপত্তি। তাদের ঈমানী শক্তি যেন অনেক বেশী ! ফলে কিছু কিছু ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে।

সরকার খোলা ময়দানে ঈদের জমায়েত না করে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছে। রোজা রাখুন বা না রাখুন, পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ পড়েন বা না পড়েন সমস্যা নেই। ঈদের জামাতে কিন্ত জায় নামাজ হাতে বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে তিনি হাজির হবেনই। সমস্যা নেই, এটা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বড় এক উৎসব। আলহামদুলিল্লাহ।

সমস্যা হল তিনি কিছুই মানতে চাইবেন না হঠাৎ নামাজে এসে। কিসের করোনা, কিসের নিরাপদ দূরত্ব, কিসের মাস্ক, যত্তোসব।! ঈমান দুর্বলের অজুহাত তুলে ঝামেলা তৈরি হবে নানা বিষয়ে, হবে মনোমালিণ্য, ঝগড়া-ফ্যাসাদ। সরকারের উপর একহাত নিয়ে উদাহারণ টানবেন বাজারের সাথে। আবার প্রতিবেশি কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে, এরাই দল বেঁধে রোগীর বাড়িতে আক্রমণ করবেন। রোগীর পাশে না দাঁড়িয়ে পরিবারকে পাপী পরিবার বানিয়ে বিষিয়ে তুলবেন। তাই আগাম প্রস্ততি নিতে হবে বলে আমি মনে করছি।

আমার নিজস্ব ভাবনাগুলো শেয়ার করছি-

# আগামী শুক্রবার জুম্মার নামাজ ও লাইলাতুল কদরের রাতে মুসল্লীদের সাথে মসজিদে ঈদের জামাত নিয়ে মুক্ত আলোচনা, পরামর্শ করতে হবে।

# কমিটি গঠন করে যুবক ও মুরব্বীদের সমন্নয়ে দ্বায়িত্ব প্রধান করতে হবে,,,,,,,,,

@ ঈদের দিন প্রধান ফটকে হেন্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশকে হাত ধোয়া নিশ্চিত করা।
@ নামাজের কাতারে নিরাপদ দূরত্বে বসা নিশ্চিত করা
@ মাস্ক পরা নিশ্চিত করা( কিছু মাস্ক কিনে রাখতে হবে, কেউ ভুল করে না আনলে তাকে পড়াতে হবে)।
@ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ্যদের অংশগ্রহণ নিরোৎসাহিত করা।
@ মসজিদের মেজ, আঙিনা, ছাদ পরিস্কার করা ( প্রয়োজনে সামিয়ানা টানানো, চট দেয়া)।
@ মসজিদের ওজুখানা, পানির লাইন ঐদিন বন্ধ রাখা ( এসব যে বন্ধ রাখা হবে তা আগেই মুসল্লীদের সাথে মত বিনিময়ের সময় জানিয়ে দেয়া)।
@ সবাইকে বাড়ি থেকে ওজু করে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
@ সকাল সকাল নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা ( বৃষ্টির বিষয় মাথায় রেখে প্রয়োজনে দ্বিতীয় জামাতের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে রাখা)।
@ নামাজে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করা এবং হাদিয়া যারা তুলবেন, তাদের গ্লাভস পরা নিশ্চিত করা( ভাংতি দেয়া যাবে না, যে যতটুকু দিবেন, সে পরিমাণ টাকা সাথে আনা)
@ ব্যক্তিগত জায়নামাজ সাথে করে নিয়ে আসা।
@ নামাজের আগে বা পরে মসজিদে কোন অবস্থাতেই ঈদ উপহার বিতরণ করা যাবে না।

@ প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা গুলো মাইকিং করে প্রচার করা। ( শেষ মূহোর্তে প্রচারণা নয়, মুসল্লীদের মানসিক ভাবে তৈরি হতে আগাম প্রচারণা চালাতে হবে।)

দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ঈদের জামাত নিরাপদ করে আগ্রাসী করোনা সংকট মোকাবেলায় আমাদের আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি, দল, ইগু বাদ দিয়ে সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে সকলকে ধৈর্য্যের সাথে করোনা মোকাবেলায় ভুমিকা রাখতে হবে।

আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। সবার সুস্থ্যতা কামনা করছি। কোন ভুল হয়ে থাকলে, পবিত্র রমজানের উসিলায় ক্ষমা চাচ্ছি।

দিক নির্দেশনা বা পরামর্শ দেবার মত, এ আমার দুঃসাহস নয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একাধিক মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার আলোকে নিজস্ব মতামত মাত্র।

ভাল থাকুন, দোয়া চাই। আগাম ঈদ মোবারক।
ঘরে থাকুন, আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

ধন্যবাদ

লেখক: উপাধ্যক্ষ
ভালুকা সরকারি কলেজ

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email