|

‘আমি তো ভাবতেই পারিনি’

প্রকাশিতঃ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ | মে ০৮, ২০২০

জাহিদুল ইসলাম খানঃ

আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমি তো ভাবতেই পারিনি
এভাবে এসে আমাকে থেমে যেতে
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার সকল অহংকারের রণতরী
দিনের পর দিন নোঙ্গর ফেলে রাখবে ঘাটে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আকাশ দাপানো আমার যত উড়োজাহাজ
বৃদ্ধের মত মাটি স্পর্শ করে পরে থাকবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
বুর্জ খলিফার ছাদে বসে
আমার আর ঘন ঘন জ্যোৎস্না দেখা হবে না।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার সামান্য সর্দি কাশির অজুহাতে
চলে যেতে পারবো না মাউন্ট এলিজাবেথে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার সদ্য কেনা রেঞ্জ রোভারটি
সাই সাই করে ধূলো উড়াবেনা রাস্তায়।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার এই অসামান্য অবকাশে
দুবাই, হংকং,বা মারিশাসে ঘুরবনা নিশ্চিতে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার রক্ত চক্ষু সাদা হয়ে যাবে আজ
আমার ক্ষমতা এত অক্ষম হয়ে ধরা দিবে
আমার বাহুতে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার টাকা আর কথা বলবে না মিনিটে মিনিটে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার অমুখ ভাই,তমুখ ভাই
ভাইদের এত এত ভালবাসা আর কোন কাজে লাগবে না আমার।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার সশস্ত্র প্রহরীরা আমাকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার যত কৌশল বাক পটুতা
স্মার্টনেস আর কথ কতা
সত্য মিথ্যার ভাগাড় এর
মেশিনে কাজ করবে না।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
এ্যাডামন্স কর্ণারে, হেয়ার ট্রিমিংএ যাওয়া হবে না আর।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার আজকের দীর্ঘ চুল
আমাকেই কাটতে হবে
আমিই যে আজ নরসুন্দর।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার প্রিয় পানশালায়
জ্যাক লন্ডন
ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে
আমার খোঁজে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার হ্যাঙ্গ আউট, মেক আউট
আমার ট্রিট ট্রিট খেলার দিন
শেষ হয়ে যাবে এভাবে।
আমার শতজ্জল দামী প্রেমিকা
আমার সাথে বেইমানী করে
আমার কোমড়ে সজোরে লাথি মেরে
ফুলনদেবীর দলে যোগ দিবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার ঘরের বুয়া বেয়ারার
অসমাপ্ত যত কাজ
আমার এই সোনার হাতে করতে হবে হরহামেশাই।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার প্রিয় রেস্তোরাঁর স্টীম মার্টন
আলু নিয়ে আর ডাল ভাতে এসে পৌঁছাবে ভাতে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
সন্ধা রাতের ঝকমকে আলোয়
চকচকে বেবীরা আমার কোল ছেড়ে পালাবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমি এখন কথায় কথায়
অফিসের কর্মচারী বা ড্রাইভারকে
না দিতে পারবো গালি, না দিতে পারবো আঘাত।
বা না পারবো কারো ন্যার্য অধিকার হরণ করে
নিজ স্বার্থ হাসিল করতে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
ওরা আমাকে জোর করে
অনির্দিষ্ট ছুটিতে পাঠাবে এভাবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার বাইরের যত মাখনের মত
দামি সম্পর্ক বাইরে ফেলে
ঘরে এসে চুপ করে বসে থাকতে হবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার বাড়ীতে আমার প্রিয় স্ত্রী সন্তানকে
আমার ভয় লাগবে
বা তারা আমাকে দেখে ভয়ে পালাবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
এভাবে এসে আমাকে দাড়াতে হবে আমাকে
আমার পূর্ব পুরুষের ধর্মের কাতারে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমার প্রতিদিনের ধিক্কারের পুলিশ
বা ২টাকার দামের পুলিশ
আমাকে ভাত দিবে,গান শোনাবে,জানাযা দিবে,
দাফন দিবে
অতঃপর একদিন প্রাণটাও দিয়ে দিবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
ঐ পাগলা ডাক্তার আমাকে বাঁচাত
নিজের জীবন নিঃশেষ করে দিবে।
আমি তো ভাবতেই পারিনি
একজন পঁচা রাজনৈতিক
একজন বাচাল সাংবাদিক
আমার স্বাস্থ্য, খাবার ও খবর দিয়ে
ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে যাবে
আমার দরজায় এসে।
আমি তো ভেবেছিলাম
আমি বুদ্ধিমান, বিত্তবান, ক্ষমতাবান
কে পারে ছুতে আমাক?
আমি তো ভাবতেই পারিনি
আমি মানুষ হয়ে ছিলাম এতদিন
আমি তো ছিলাম যান্ত্রিক
বহু ব্যস্ত একজন
আজ এসে দেখি
আমার পৃথিবী, আমার জানালা,আমার বারান্দা
বহুদিন পরে আমার ঘুম ভাঙে আজ পাখির ডাকে
বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে।
আকাশের দিকে অজানা পাখিদের
উড়াউড়ি দেখে ভাবি
আমি মানুষ।
খুবই সামান্য একজন অসহায় আর দূর্বল
অবশেষে
আমি কি মানুষ????

লেখকঃ সংবাদকর্মী

Print Friendly, PDF & Email